দৈহিক সুস্থতা মানে বিভিন্ন রোগ থেকে দেহকে মুক্ত রাখা। বলা হয় “Prevention is  better than cure” অর্থাৎ রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে রোগের প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণই শ্রেয়।  বিভিন্ন রোগ শরীরে বাসা বাঁধলে আমরা চিকিৎসকের কাছে যাইদামী দামী ঔষধ খাই। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, এই সব ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতেও আবার নোতুন নোতুন রোগের সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিয়মিত যোগাসন করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে  আমরা বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে থাকতে পারি তথা সারিয়ে তুলতে পারি

যোগাসন

যৌগিক নৃত্য

আসনের শারীরবৃত্তীয় সুফল

মানবদেহে চক্র,গ্রন্থি ও বৃত্তির প্রভাব

প্রাণশক্তি ও শ্বাস-প্রশ্বাস

স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত প্রাণায়াম

খাদ্যাখাদ্যের বিচার

যৌগিক চিকিৎসা

বিভিন্ন যৌগিক ক্রিয়া

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

মন মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড, বিভিন্ন গ্রন্থি, স্নায়ুকোষ, স্নায়ুতন্ত্র, ইন্দ্রিয়সমূহ  তথা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সমস্ত কাজ করে। আমাদের মন কতগুলি বৃত্তির সমাহার।  এগুলির সংখ্যা প্রধানতঃ ৫০টি। এগুলি মস্তিষ্কে ও সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যে বিভিন্ন চক্রে অবস্থিত বিভিন্ন গ্রন্থিগুলির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন, লজ্জা, ঘৃণা, ভয়, লোভ, ক্রোধ, আশা, চিন্তা, চেষ্টা, বুদ্ধি, বিবেক প্রভৃতি। সাধারণতঃ মানুষের মধ্যে হীন বৃত্তিগুলি প্রবল ও উন্নত বৃত্তিগুলি অস্ফুট থাকে। যোগের যম-নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, ধ্যান প্রভৃতি প্রক্রিয়ার অনুশীলনের সাহায্যে বৃত্তিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে মনের বিকাশ ঘটানো যায়। বৃত্তিগুলিকে  যতই আমরা নিয়ন্ত্রণ করবো ততই মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে, ততই মনের শক্তি বৃদ্ধি পাবে, ক্ষুদ্রতা-সঙ্কীর্ণতার গণ্ডী পেরিয়ে মনের বিকাশ হবে ।

মানসিক বিকাশ

মনের খেলা

এক ও অদ্বিতীয়, অনাদি-অনন্ত, আনন্দঘন সত্তা পরমপুরুষ এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা। এই পরিদৃশ্যমান জগত, মানুষ, পশু-পক্ষী ঊদ্ভিদ সবই পরমপুরুষের মানস কল্পনায় সৃষ্ট। তিনি সবার পিতা, বিশ্বপিতা। তিনি সবাইকার একান্ত আপনজন, পরম প্রিয় বাবা। আমরা সবাই তাঁর সন্তান, সবাই ভাই-বোন। সবাই এক বিশ্ব পরিবারের সদস্য। এই বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রেরণায় সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে এক সঙ্গে এগিয়ে চলার নামই সমাজ। তাই শাস্ত্রে বলা হয়েছে ‘সমানম্ এজতে ইতি সমাজ’ অর্থাৎ সকলে মিলেমিশে এগিয়ে চলার নামই সমাজ।

সমাজ

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি

সম-সমাজ তত্ত্ব

সমাজের ঐক্যসূত্রঃ

সামাজিক শিষ্টাচার

আজকের সমাজে সবচেয়ে বড় সংকট হ’ল নৈতিকতার সংকট। মানুষের নৈতিক-সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই সমাজে এত অবিচার-অত্যাচার-শোষণ। যোগেশ্বর শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী বলেছেন, “আদর্শ সমাজ-ব্যবস্থা নির্ভর করে সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামবায়িক আচরণের ওপর, আর এই সামবায়িক আচরণ আবার যম-নিয়মের সাধনার ওপর নির্ভরশীল। তাই আধ্যাত্মিক সাধনা, বিশেষ করে যম-নিয়মের সাধনাই আদর্শ সমাজের মূল ভিত্তি”। আনন্দমার্গের রাজাধিরাজ যোগ সাধনার ভিত্তি হ’ল নৈতিকতা।

নীতিবাদ

যম সাধনা

নিয়ম সাধনা

পঞ্চদশ শীল

যোগীর আচরণ বিধি (ষোড়শ বিধি)

“সুখানুরক্তি পরমা জৈবীবৃত্তিঃ”। প্রতিটি জীবই সুখ চায়, প্রতিটি মানুষ সুখ চায়। কোন কিছুর অভাবই দুঃখ আর অভাবের পূর্ত্তিই হ’ল সুখ। জাগতিক বস্তু সীমিত আর আমাদের দেহের প্রয়োজনও সীমিত। তাই জাগতিক বস্তুর প্রাপ্তিতে সুখও সীমিত অর্থাৎ অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায়। কিন্তু মানুষের মনের ক্ষুধা অনন্ত। তার দেহের ক্ষুধা মিটলেও মনের ক্ষুধা মেটে না। সে অনন্ত সুখ পেতে চায়। এই অনন্ত সুখই আনন্দ, আর আনন্দই ব্রহ্ম। মন যখন বিশেষ প্রচেষ্টার দ্বারা আত্মাভিমুখী হয়ে বিস্তার লাভ করে, আত্মিক অনুভূতি লাভ করে সে পায় আনন্দ। আর তখনই কেবল আমাদের অতৃপ্ত মন তৃপ্ত হতে পারে। তাই প্রতিটি মানুষ জ্ঞাতসারে হোক বা অজ্ঞাতসারেই হোক সেই আনন্দঘনসত্তা ব্রহ্মকে পেতে চায়। আর এঁকে উপলব্ধি করার যে বিধিবদ্ধ আন্তরিক প্রয়াস তাকেই বলে যোগ সাধনা।

আনন্দমার্গ যোগ দর্শন

যোগসাধনা বিজ্ঞান

সদ্গুরু, দীক্ষা , মন্ত্র

কর্ম-জ্ঞান-যোগ-ভক্তি

মানব ধর্ম

Meditation is a concentrated thinking- মেডিটেশন হ’ল পূর্ণ মনোযোগের সাথে একটা বিশেষ চিন্তা করা। মানুষের মনের ধর্ম হচ্ছে As you think so you become অর্থাৎ যে যেমন চিন্তা করে সে তেমন হয়। মনের চিন্তাই তার কর্মের রূপ নেয়। কর্মের পরিণাম তার সংস্কারে পরিণত হয়। আবার সেই সংস্কার অনুযায়ী মানুষ চিন্তা করে ও কর্ম করে। তাই আমাদের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক পথে পরিচালিত করতে নিয়মিত যোগসাধনা করতে হবে। নিয়মিত যোগসাধনা (মেডিটেশন) অভ্যাস করলে,-
*গভীর নিদ্রার মত শরীরকে দু’বার বিশ্রাম দেয়। ফলে শক্তি বৃদ্ধি পায়, উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়।
*মানসিক চাপ জনিত (stress) রোগ সমূহ প্রতিরোধ করে ও সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
*মানসিক অসন্তোষ, হতাশা, খিটখিটে ভাব, শত্রুতা ভাব ইত্যাদি কমে যায় ফলে মানসিক শান্তি লাভ করা যায়।
*মনের একাগ্রতা, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আর যার মন যত একাগ্র সে তত মেধাবী।
*ছাত্র-যুবাদের জীবনের অশুভ প্রবণতা (ভুল পথ) থেকে বিরত করে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে।
*মনের বিস্তার হয় অর্থাৎ মন থেকে বিভিন্ন ধরণের সংকীর্ণতা, হীনমন্যতা বোধ ইত্যাদি চলে যায়। ফলে আধ্যাত্মিক চিন্তা, উচ্চতর গবেষণা, সৃজনশীলতা, সুস্থ্য সংস্কৃতির চর্চা ইত্যাদি সহজতর হয়।
*আত্মনিয়ন্ত্রণ তথা আত্ম সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।
*পারিবারিক জীবনে হাসি-খুশী মেজাজে থাকা যায় ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সকলকে মানিয়ে নিয়ে চলা সম্ভবপর হয়।

মেডিটেশন-২

মেডিটেশন-৩

মেডিটেশন-৪

মেডিটেশন-৫

*মেডিটেশনের দ্বারা মন ও স্নায়ুকোষের সক্রিয় অংশ যথেষ্ট বিশ্রাম পায়। তাই শান্ত ও সুসংহত মনে কাজ করা বা যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

*এছাড়া মনের একাগ্রতার ফলে সহজে ক্লান্তিবোধ আসে না, ফলে কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা বাড়ে।

*চাকুরীজীবিদের কর্মক্ষেত্রে নানা রকম অশান্তি ও দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করে।

*নীতি পরায়নতা, বিশ্বস্ততা বাড়ায়।

*চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী ইত্যাদি পেশাজীবিদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায়। একেই বর্তমান কালের বহু আলোচিত ভাষায় বলে ‘যোগাকোনমিক্‌স’।

যোগাকোনমিকস্

আমাদের জীবনধারার প্রতি মুহুর্ত্তে আমরা মানসিক চাপের  (stress) শিকার হই। মানসিক চাপ বৃদ্ধি  পেলে সব সময় অশান্তি, খিটখিটে মেজাজ, মাথাধরা প্রভৃতি দেখা দেয়। ক্রমাগত এই মানসিক চাপ থেকে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, আলসারহাঁপানী  প্রভৃতি রোগেরও সৃষ্টি হয়। শুধু এই রোগগুলিই নয়, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে অধিকাংশ রোগেরই উৎস এই মানসিক চাপ। এই মানসিক চাপ থেকে সাময়িক ভাবে রেহাই পেতে মানুষ সাধারণতঃ ধুমপান, মদ, হিরোইন, ইয়াবা প্রভৃতি  মারাত্মক নেশার দিকে ঝোঁকে। আর এর ফলে মানুষ ক্যানসার প্রভৃতি জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধির কবলে পড়ে। এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তিরও একমাত্র উপায় হল নিয়মিত যোগ অভ্যাস করা। বিশ্বের খ্যাতনামা চিকিৎসাবিদরাও এই  মত পোষণ করেন।

ষ্ট্রেস অভিশাপ

মঙ্গলময় ষ্ট্রেস

ষ্ট্রেস থেকে মুক্তি

উপরোক্ত PDF File গুলো পড়তে PDF Book icone or Read-এ এবং Save-করতে Download-এ ক্লিক করুন।