করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যোগ

  • Post Author:
  • Post Category:Blog

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যোগ

-আচার্য ব্রজেশ্বরানন্দ অবধূত

 

বর্তমান সারা বিশ্বে, নোবেল করোনা ভাইরাস সঞ্জাত রোগ কোভিড – ১৯ মহামারী রূপে আবির্ভুত হয়েছে। যা বিশ্বের সমস্ত দেশের নেতৃবৃন্দ সহ  সকল বিশ্ববাসীর রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে আর সেই  সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব ও অর্থাভাব, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কাছে। ফলে সকল মানুষের মানসিক চাপ (Stress) তীব্র ভাবে বেড়ে চলেছে, হতাশাগ্রস্থ মানুষ আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। এই হতাশা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের দেহের  রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system) ক্রমশঃ দুর্বলতর হতে থাকে। দেখা গেছে, এই হতাশাগ্রস্থ, আতঙ্কগ্রস্থ মানুষ যখন মারণ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার তাদের কারো যদি শ্বাসের বা হার্টের সমস্যা থাকে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি আরও মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। আর  যাদের মধ্যে এই  রোগ   প্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system)  সবল তারা এই করোনা ভাইরাস দ্বারা সহজে আক্রান্ত হয় না বা  সাময়িক ভাবে করোনার দ্বারা আক্রান্ত হলেও তারা সত্বর সুস্থ্য হয়ে ওঠে।

যোগ শাস্ত্র মতে ষ্ট্রেস মুক্তি তথা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উপায়ঃ

*যোগ সাধনা (Meditation):

ষ্ট্রেসের বড়  শত্রু মেলাটনিন। পিনিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে ক্ষরিত হয় মেলাটোনিন হর্মোন। আমাদের চেতন ও অবচেতন মন সক্রিয় থাকলে পিনিয়াল গ্ল্যান্ড নিস্ক্রিয় থাকে আর অন্যান্য গ্ল্যান্ড সক্রিয় থাকে। আবার চেতন ও অবচেতন মন নিস্ক্রিয় হলে পিনিয়াল গ্ল্যান্ড সক্রিয় হয়, ক্ষরিত হয় মেলাটোনিন হর্মোন।

তাই মনের শক্তি একাগ্র করে চেতন মনকে অবচেতন মনে, অবচেতন মনকে কারণ মনে সমাহিত করতে পারলে পিনিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে মেলাটোনিন নিঃসরিত হবে।

     নিয়মিত যোগ সাধনার দ্বারাই মনের শক্তি একাগ্র করে চেতন মনকে অবচেতন মনে, অবচেতন মনকে কারণ মনে  সমাহিত করতে পারা যায়।  মনকে একাগ্র করার পদ্ধতিই যোগ সাধনা (Meditation)।

*আসনঃ

আমাদের শরীর ও মনের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট । মনের অভিপ্রকাশ বৃত্তির মাধ্যমে হয় আর বৃত্তির প্রাবল্য শরীরের গ্রন্থির উপর নির্ভর করে। শরীরে বহু গ্রন্থি রয়েছে আর প্রত্যেকটি গ্রন্থি থেকে বিশেষ বিশেষ রস ক্ষরিত হয়। কোন গ্রন্থিতে ত্রুটি থাকলে সেই গ্রন্থি গ্রন্থিরস ক্ষরণে সন্তুলণ হারিয়ে ফেলে, ফলে বিশেষ বিশেষ বৃত্তির প্রাবল্য দেখা যায়। তাই মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে  গ্রন্থির ত্রুটি দূর করতে হবে। আসন গ্রন্থির ওপর সরাসরি  চাপ দিয়ে এই গ্রন্থির হর্মোন ক্ষরণকে সন্তুলিত করে। যেমন-    

         *ধনুরাসন, ময়ুরাসন, চক্রাসন, হলাসন ও আগ্নেয়ী মুদ্রা  এড্রিনাল গ্রন্থির ওপর সরাসরি  চাপ দিয়ে এই গ্রন্থির হর্মোন ক্ষরণকে সন্তুলিত করে, যা মানসিক চাপ (Stress) মুক্ত করতে সাহায্য করে।

*আবার নিয়মিত ভূজঙ্গাসন, সর্বাঙ্গাসন, মৎস্যমুদ্রা, বায়বী প্রাণায়াম ও সহজ প্রাণায়াম-১ অভ্যাসের দ্বারা থাইমাস  গ্রন্থি শক্তিশালী হয় যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের রোগ আক্রমণ থেকে বাঁচায়।

খাদ্যের বিচারঃ

অধিকাংশ  অসুস্থতা খুব বেশী  খাদ্য খাওয়া ও ভুল ধরনের খাদ্য খাওয়ার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে  সম্পর্কযুক্ত।•অত্যধিক প্রোটিনযুক্ত খাবারে লিভার ও কিডনির সমস্যা তৈরী হয়। এছাড়া কিডনি, গল ব্লাডার ও ইউরিনারী ষ্টোন, ধমনীর কাঠিন্য, অস্টিওপরোসিস, বাত, গেঁটেবাত ইত্যাদি হয়। •অত্যধিক (মিহি) শর্করা (starch) খেলে বহুমুত্র রোগ দেখা দেয়। এছাড়া উচ্চ রক্ত ​​শর্করা, স্থূলতাও দেখা দেয়। •অত্যধিক চর্বি জাতীয় খাবারে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ বা মস্তিষ্কের স্ট্রোক হবার সম্ভাবনা বাড়ে।          এই তিন ধরণের অত্যধিক খাদ্য গ্রহণ একসঙ্গে উন্নত ও উন্নয়নশীল  সমাজে 50%  এর অধিক মানুষের মৃত্যুর কারণ  হয়ে দেখা  দিয়েছে।  এইসব দেশে খাদ্য সাধারণত খুব সমৃদ্ধ, খুব বেশি পরিমান,  খুব মিহি  আর খুবই অম্লধর্মী। সেইসাথে ক্রমবর্ধমান এক আসনে বসে থাকা বা পরিশ্রমবিমুখ  জীবনধারার  সাথে এই খাদ্য খাওয়ার ফলে  অভ্যাসগত ভাবেই জনসংখ্যার 80% এর বেশী লোকের কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে। যা পরিণামে তাদের  শরীরে মারাত্মক রোগ  সৃষ্টি  করছে। এর থেকে বাঁচার উপায় হ’ল খাদ্যের পরিবর্তন করতে হবে, নয়তো  মৃত্যু। এখন কোন পথ বেছে নেব পছন্দ আমাদের।

 

আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তা মুখ্যতঃ ২ ধরণের- অম্লধর্মী খাদ্য ও ক্ষারধর্মী খাদ্য। অম্লধর্মী খাদ্য পাকস্থলীতে অম্ল উৎপাদনকে উত্তেজিত করে বাড়িয়ে দেয় আর ক্ষারধর্মী খাদ্য অম্ল উৎপাদনকে কমিয়ে দেয়। তাই অম্লধর্মী খাদ্য বেশী গ্রহণ করলে তা রক্তে অম্লের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু রক্ত দেহের  প্রতিটি কোষে পৌঁছায়, তাই দেহের প্রতিটি কোষও অম্লধর্মী হয়ে যায়। এটাকেই বিবেচনা করা হয় সমস্ত রোগের প্রারম্ভিক বিন্দু। যতক্ষণ রক্ত ক্ষারধর্মী থাকে ততক্ষণ সাধারণতঃ মানুষের কোন রোগ হতে পারে না।

তাই আলসার, গ্যাষ্ট্রিক ইত্যাদি যে সব রোগ পাকস্থলীতে অধিক  অম্ল উৎপাদনের  জন্য হয়ে থাকে, তাকে সারাতে হলে ক্ষারধর্মী খাদ্য বেশী গ্রহণ করতে হবে।      অধিকাংশ খাবারের আংশিক আম্লিক ও আংশিক ক্ষারীয় হজম  প্রয়োজন। তবে উপলব্ধি ও বাস্তবতার জন্য, খাদ্যকে প্রধানতঃ ক্ষারধর্মী বা  প্রধানতঃ অম্লধর্মী হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে।

যেমন,

*সর্বাধিক ক্ষারীয় অর্থাৎ সর্বনিম্ন অম্লসৃষ্টিকারী সেরা খাদ্যগুলিঃ

-নেবু জল অল্প লবনসহ, ডাবের পানি, ভেষজ চা, টক-মিষ্টি ফলের রস, অল্প মধুসহ পানি,  অন্যান্য ফলের রস, শাক-সব্জীর রস, টক-মিষ্টি জাতীয় ফল, রসালো রল,  অতি পাকা কলা সহ অন্যান্য সব ফল (স্টার্চি ফল বাদে)।

সবুজ শাক-সব্জী, সামুদ্রিক শাক-সব্জী, অঙ্কুরিত শস্য, গরম মশলা বাদে মশলা, অন্যান্য সমস্ত শাক-সবজী, তাপ ছাড়া ঘর্ষণের দ্বারা উৎপাদিত তৈল, কাঁচা মিষ্টি ভূট্টা ও কাঁচা মটর শুঁটি ।

*স্বল্পভাবে অম্ল তৈরী করে (সেমি ক্ষারীয়) খাদ্যঃ স্বাস্থ্যকর মানুষের জন্য ভাল।

-সামান্য পরিমাণ দই কেবল মাত্র lacto bacteria- এর জন্য, শশা, বাদামের দুধ, কাল strap গুড়, স্টার্চযুক্ত সবজী যেমন- আলু, কাঁঠাল, সাধারণ কলা (অতি পাকা নয়), টাটকা তফু, অল্প পরিমাণে বাদাম (ভাজা নয়) ভিজিয়ে ভালভাবে চিবিয়ে বা বেটে খেলে।

*সেমি এসিড গঠনকারী খাদ্যগুলিঃ স্বল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর মানুষের জন্য ভাল।

-পুরো শস্য যেমন-বাজরা, গমের রুটি, চাল, নুডলস, ভূট্টা, ওটস, বার্লি ইত্যদি।

-Legumes যেমন- মুগডাল, মসুর, সয়াবিন, চিনাবাদাম ইত্যদি।

-দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য।

*এসিড গঠনকারী খাদ্যগুলিঃ অল্প পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যকর মানুষের খুব ক্ষতিকর নয়।

হালকা-কড়া ভাজা শাক-সবজী (নারকেলের তেল ব্যবহারের জন্য ভাল)

কাঁচা চিনি, মিহি শস্য (সাদা রুটি, সাদা ভাত, সাদা নুডলস সহ), ভেজি মাংস, পরিশোধিত চিনি, চা, কফি, সমস্ত তেল ও চর্বি (মাখন, তেল, উদ্ভিদ চর্বি ও প্রাণী চর্বি ইত্যাদি) বেশীর ভাগ অ-ভাজা নিরামিষ জাঙ্ক ফুড।

*অত্যন্ত এসিড সৃষ্টি কারী খাদ্যগুলিঃ বাদ দিন বা কমিয়ে ফেলুন।

অত্যধিক ভাজা শাক-সবজী, মাছ, পোল্ট্রি, মাংস, ডিম।

অর্ধেক অর্ধেক: অর্থাৎ একটি থালায় প্রদত্ত খাবার  থেকে একদিকে সব অম্লধর্মী খাবার ও অন্য দিকে সব ক্ষারধর্মী খাবার রাখলে যেন দুই দিকের পরিমাণ সমান হয়। এই খাদ্য সাধারণতঃ সুস্থ শরীরের  মানুষের নিখুঁত স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য উত্তম। কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষের রক্তের অম্লতা কমাতে হবে। তাই তার খাদ্যে অম্লধর্মী খাবারের চেয়ে ক্ষারধর্মী খাবারের পরিমাণ বেশী হতে হবে। যত বেশী সে ক্ষারধর্মী খাবার খাবে তত তাড়াতাড়ি সে সুস্থ হয়ে উঠবে।

আমাদের জিহ্বা সব সময় “সুস্বাদু” খাবার চায় যা সাধারণতঃ অম্লধর্মী। পেট (পাকস্থলী / Duodenum)  চায় ক্ষারধর্মী খাদ্য।   কারণ  এটা হজম করা সহজ, পরিপাক যন্ত্রের  জন্য  কাজ কমিয়ে দেয়। সেই সাথে পুষ্টিকরও।

আসলে সুস্বাদু খাদ্য বলে তেমন কোন কিছু নেই। মানুষের অভ্যাসের ফলে এই স্বাদের পরিবর্তন হয়। যেমন, যে মানুষ খারাপ বন্ধুর পাল্লায় পড়ে মদ খেতে শুরু করে ও মদে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন মদই তার কাছে সুস্বাদু বলে মনে হয়। অভ্যাসের ফলে তা তার সংস্কারে পরিণত হয়। মানুষ সাধারণতঃ তার সংস্কার অনুযায়ী যে সব খাদ্য খেয়ে অভ্যস্ত বা পছন্দ করে সেগুলি তার কাছে সুস্বাদু বলে মনে হয়। • তেলে ভাজলে ক্ষারধর্মী খাদ্য অম্লধর্মী হয়ে যায়। • বাসি খাদ্য (রান্নার পর 6 ঘন্টার অধিক রাখলে) শুধু অম্লধর্মী হয় না, অনেক ক্ষেত্রে কষ্টদায়ক বিষাক্ত (toxic) খাবারে পরিণত হয়। • যে কোনো প্রক্রিয়াকরণ / পরিমার্জিত করন খাদ্যের ক্ষারত্ব হ্রাস করে। ক্ষারযুক্ত খাদ্য টাটকা থাকা আবশ্যক।

* দুগ্ধজাত পণ্যগুলি ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুসারে পরিবর্তিত হয়- কারও পক্ষে এগুলি ভাল আবার কারও পক্ষে এগুলি খারাপ।

*পরিশোধিত চিনি, চা ও কফি হজম করা কঠিন নয়, তবে কেউ যদি এগুলি নিয়মিত বেশী গ্রহণ করে তবে তা খুব অম্ল তৈরী করে, ষ্ট্রেস তৈরী করে আর শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ছিনিয়ে নেয়।

*পেঁয়াজ, রসুন ও মাশরুম হজম করা কঠিন নয়, তবে তারা নীচের গ্রন্থিগুলিকে উত্তাপ দেয় ও প্রবৃত্তিগুলিকে উত্তেজিত করে।

নেশা ছাড়ুনঃ

আজকের আধুনিক সভ্য সমাজে সবচেয়ে বড় অভিশাপ হলো মাদকের নেশা। মাদক বলতে শুধু মদই নয়- মদ, ধূমপান, গাঁজা, সিদ্ধি, আফিম, ভাঙ, ড্রাগ,  হেরোইন, ইয়াবা ইত্যাদি সব ধরণের উগ্র নেশাদ্রব্যকেই এক কথায় মাদক বলা হয়। যে কোন মাদকের নেশাই শরীর ও মনের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কাদের ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার বেশী সম্ভাবনা?

-যারা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোন লোক বা জীব বা বস্তুর সংস্পর্শে এসেছে।

-যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (immune system) দুর্বল ।

-যাদের শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র দুর্বল।

-যাদের  বয়স ৬০ বছরের বেশী (সাধারণতঃ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল)।

-যাদের বয়স ১২ বছরের কম কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকশিত হয়নি।

-যারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করে।

 

**বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সরকারী নির্দেশনার সাথে  সমন্বয় করে করোনা ভাইরাস  প্রতিরোধক কিছু  ব্যবস্থাঃ

*সাবান ও এলকোহল জনিত হ্যাণ্ড ওয়াশ দিয়ে নিয়মিত ২০ সেকেণ্ড কচলিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে বিশেষ করে খাবার আগে ও বাইরে কোথাও থেকে এলে।

*হাঁচি বা কাশি পেলে টিসু পেপার বা রুমাল বা হাত দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে নিতে হবে।

* করোনা ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক ছোঁয়াছে  সংক্রামক জীবানু তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।  অসুস্থ্য কোন লোক থেকে অন্ততঃ ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

*নিজে অসুস্থ্য হলে ঘরে থাকতে হবে ও অন্যদের থেকে আলাদা থাকতে হবে।

*অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করা যাবে না।

*সর্বাত্মক শৌচ অর্থাৎ শরীর, পরিবেশ ও চারপাশের সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

*বেশী মশলা ও তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।

*সকালে অল্প লবনসহ ঈষৎ গরম জলে নেবুর রস মিশিয়ে পান করতে হবে।

*রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্ধক পানীয় যেমন- টমেটো জুস অল্প লবন সহ পান করতে হবে। টমেটোর খোসা গরম জলে সিদ্ধ করে ফেলে দিতে হবে।

*তাজা কমলার জুস (টক নয়) পান করতে হবে।

*দুপুরের খাবার পরে ঘোল খাওয়া যেতে পারে।

*রাতে ভরপেট খাওয়া চলবে না।

*রাত্রে শশা ও দই খাওয়া চলবে না।

*খুব গরম বা খুব ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।

*খালিপেটে তুলশী পাতা খাবে।

*হোটেল বা রেষ্টুরেণ্টের খাবার পরিহার করবে।

*গলায় যাতে ভাইরাস প্রথমে আক্রমন বা সংক্রমন করতে না পারে তাই দিনে ২/৩ বার ধৌতি করতে হবে(তিনটি আঙ্গুল দিয়ে গলা পরিষ্কার করা)।

*গরম জলে লবন দিয়ে গারগেল করতে হবে।

*সারা দিনে অল্প অল্প করে পানি পান করতে হবে।

*আইসক্রিম বা ফ্রীজে রাখা ঠাণ্ডা খাবার খাওয়া চলবে না।

*দিনে দুইবার নাসাপান করা উচিত। ফলে নাকের মধ্যে দিয়ে যে ভাইরাস প্রবেশ করেছে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

*সাধনা/উপাসনা, ভোজন শয়নের পূর্বে ব্যাপক শৌচ করতে হবে

নিয়ম হ’ল- হাতের কনুই, হাত, হাটু আর নিচের অংশটা, ঘাড়, কান, মাথার পশ্চাৎ ভাগ দেহের এইসব অংশগুলো শীতল পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। আর চোখ খোলা রেখে মুখভর্তি পানি নিয়ে চোখের ওপর কমপক্ষে ১০/১২ বার পানির ঝাপটা দিতে হবে। দেহের অতিরিক্ত উত্তাপ দূর করা আর কর্মেন্দ্রিয়গুলোকে শান্ত রাখতে এই ধরণের ব্যাপক শৌচ বিশেষ  প্রয়োজন।  তাছাড়া মানুষ এতে সতেজ ও পবিত্র বোধ করে।

এছাড়া,

*১ টুকরো কাচা হলুদ, ১ টুকরো আদা, ৩-৪ টি তুলশী পাতা, ২-৩টি গোল মরিচ গুড়ো গরম জলে ফুটিয়ে এক কাপ মতো  গারগল করে খেতে হবে দিনে ৩/৪ বার।

অথবা,

*আদা ও লবঙ্গ এক সঙ্গে পিষে তার সাথে কিছু তুলশী পাতা নিয়ে গরম পানিতে ফুটিয়ে এক কাপ মতো গারগল করে খেতে হবে দিনে ৩/৪ বার।

অথবা,

*নিমপাতা বেটে তার রস গরম পানির সাথে মিশিয়ে গারগল করে খেতে হবে দিনে ৩/৪ বার। এরফলে গলার কোষগুলোর রক্ত সঞ্চালণ বাড়বে, ইমিউনিটি বাড়বে। যার ফলে অনেক বেশী সমর্থ হবে করোনা বা কোভিড-১৯ ভাইরাসকে পরাজিত করতে।

ভাইরাস শব্দটা মানুষের কাছে কোনো নতুন কথা নয়। এই বিশ্ব পরিমণ্ডলে হাজার হাজার ভাইরাস ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর সেই সকল ভাইরাসের সঙ্গে অতীতে মানুষ লড়াই করেছে। বর্তমানেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আবার ভবিষ্যতেও লড়াই চালিয়ে যাবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অতীতে মানুষ যেমন সেই লড়াইয়ে জয়লাভ করেছিল বর্তমানেও মানুষ এই লড়াইয়ে জয়লাভ করবে।

ধর্মগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী তাঁর মাইক্রোবাইটাম তত্ত্বে এইসব বিভিন্ন ধরণের মারণ রোগবাহী ভাইরাসগুলিকে  নেগেটিব মাইক্রোবাইটাম নামে অবিহিত করেছেন। আর এই ধরণের নেগেটিব মাইক্রোবাইটামকে প্রতিহত করতে পারে পজিটিব মাইক্রোবাইটাম। মানুষ এই পজিটিব মাইক্রোবাইটামকে সৃষ্টি করতে পারে ভজন, কীর্তন ও যোগসাধনার মাধ্যমে।